কৃত্রিমের মাঝে অকৃত্রিম কিছুঃ যে রোবট মানুষের মত ঘামে

‘মন আমার দেহ ঘড়ি সন্ধান করি, কোন মিস্তরী বানাইছে’ এই মিস্তরীর নিপুন হাতের কাজ বোঝা দায়। তবুও চেষ্টা চলে তার সৃষ্টির আদলে কিছু করে মনের তুষ্টি লাভের। আর সেই আসলের কাছে যাওয়ার কদরটাও নেহাত কম নয়। আসল নকলের হিসেবটা নাহয় আজ তোলা থাক বরং কৃত্রিমতাকে কিছুটা উপোযোগী করে তোলার গল্প শুনি।

উৎপাদন অথবা অন্য কোন কাজে আমরা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট ব্যবহার করছি। কিন্তু মূল ভাবনার বিষয়টি হল অতিরিক্ত তাপ। রোবট যদি মানুষের মত কাজ করতে পারত তবে সেখানে তাপ সৃষ্টি হত না। কিন্তু রোবটকেতো হয় তাপ থেকে মুক্তি দিতে হবে নাহয় ঠান্ডা হবার ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আর যদি তা না করা যায় তবে রোবট বা যে কোন যন্ত্রই অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টির ফলে অকেজো হয়ে যেতে পারে।

অনেক রোবটই বিশেষ কুলিং সিস্টেমসহ তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে নিজস্ব শক্তির উৎস থাকা প্রয়োজন। রোবটগুলোকে এমনভাবে নকশা করা হয় যেন এই পাওয়ার সোর্স অতিরিক্ত কাজ করতে গেলেই বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়াও এতে অতিরিক্ত বাল্ক যুক্ত করা হয় যার ফলে রোবট ধীর গতি হয়ে পরে। এক্ষেত্রে আরো বেশি তাপ উৎপন্ন হতে পারে।

University of Tokyo’s JSK Lab এর গবেষকরা তাদের মানবরূপী রোবটের সাহায্যে বিকল্প একটি শীতলকরণ পদ্ধতি টেস্ট করা শুরু করেছে। তাদের এই ‘কেনগরো’ নামক রোবটটি মেটালের কঙ্কাল দিয়ে তৈরি। যা ১০৮ টি মোটর দ্বারা চালিত হয়। যেহেতু রোবট শীতল করার আলাদা কক্ষ বা ফ্যানের ব্যবস্থা নেই, সেহুতু গবেষকরা একটি নিষ্ক্রিয় পানি ভিত্তিক কুলিং সিস্টেম তৈরি করে। রোবটে আলাদা রেডিয়েটর স্থাপন করার পরিবর্তে তারা রোবটের ভেতর থেকে পানি চুইয়ে পরার ব্যবস্থা করে। যার ফলে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মোটরগুলো শীতল হয়। কেনগরোর এই ঘাম পদ্ধতির মত একই ভাবে কিন্তু আমরা আমাদের দেহ শীতল করি। তাই রোবটের মধ্যে এই পানির ব্যবস্থা করাটা জরুরী যাতে সে ঘাম তৈরি করতে সক্ষম হয়।

একটি রোবট একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য কি পরিমাণ পরিশ্রম করছে তার উপর নির্ভর করে গবেষকরা জানিয়েছেন, কেনগরো রোবটটি এক কাপ পানির সাহায্যে অর্ধেক দিন দৌড়াতে পারবে। শুধু তাই নয় রোবটটিকে পুশ-আপ করানো ও ঘাম ঝরানোর মাধ্যমে তারা তাদের প্রোটোটাইপ পরীক্ষা করে থাকে। এছাড়া কেনগরোর যেমন মানুষের মত কুলিং সিস্টেম রয়েছে, তেমনি তার অঙ্গ-প্রতঙ্গগুলোও কিন্তু মানুষের মতই নমনীয়।