আধারের উল্টোপিঠঃ লাইট বাল্বের ইতিকথা

কালো অন্ধকারে ভীতসন্ত্রস্ত মানুষগুলো দেখল পৃথিবী আলো করে আসা সূর্যের অবতরণ। কিন্তু সূর্য তার দিনের আলো দিনেই বিলিয়ে চলে গেল আর রেখে গেল সেই গাড় অন্ধকার। তাই বলে মানুষ আর হাত গুটিয়ে বসে থাকল না, ছুটতে থাকলা আলোর সন্ধানে। তাইতো আগুন জ্বালানো থেকে শুরু করে আজকের এলইডি বাল্ব এর পেছনে আছে কতশত ঘটনার সংমিশ্রণ আর হাজারো চিন্তার কারসাজি।

বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কারের সাথে Thomas Edison এর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। তবে শুরুর ইতিহাসটা ছিল কিছুটা ভিন্ন। ১৮০২ সালে Humphry Davy একদিন দুটি তার ব্যাটারির সাথে যুক্ত করে চার্জ করতে থাকলে হঠাৎ কার্বন জ্বলে উঠল। এটি ছিল প্রথম আবিষ্কৃত বৈদ্যুতিক বাতি। সে সময় নব আবিষ্কৃত এই বাতি ব্যপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু এর অধিক উজ্জ্বলতা ছিল সাধারন বাড়িঘরে ব্যবহারের অনুপযোগী। তাই পরবর্তিতে তা কেবল বাতিঘর বা টাওয়ারে ব্যবহার হত।

light-bulb-facebook

এরপর ১৮৪০ সালে রসায়নবিদ Warren De la Rue প্রথম বৈদ্যুতিক বাল্বের ধারণা নিয়ে আসেন। তিনি একটি ভ্যাকুয়াম টিউবে প্লাটিনাম কুন্ডলী রেখে তাতে বিদ্যুৎ প্রবাহ করেছিলেন। কিন্তু সে বাল্বটি ছিল একটু ব্যয়বহুল। পরবর্তিতে ১৮৭০ সালে Joseph Wilson Swan আধুনিক বাল্বের নকশা তৈরি করেছিলেন। তবে ভাল ভ্যাকুয়াম ও পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে বাল্বটি বানিজ্যিকভাবে সাফল্য পায়নি।

Thomas Edison পূর্ববর্তি ধারণার ওপর ভিত্তি করে নতুন করে গবেষণা শুরু করেন ১৮৭৮ সালে। এ সময় তিনি মূল নকশার বাল্বে আলোর স্থায়িত্বের ওপর জোর দেন। তিনি এবং তার গবেষক দল নানান ধাতু দিয়ে বিভিন্নভাবে গবেষণা করতে থাকেন। তার এই দলে উল্লেখযোগ্য গবেষক ছিলেন আফ্রিকান বিজ্ঞানী Lewis Howard Latimer.

অবশেষে ১৮৭৯ সালে Thomas Edison  বাঁশের থেকে কার্বন ফিলামেন্ট তৈরি করেন যার সাহায্যে বাল্ব প্রায় ১২০০ ঘন্টা পর্যন্ত জ্বলতে পারে। নির্ভরযোগ্য এই বৈদ্যুতিক বাল্ব এডিসন বাণিজ্যিকভাবে বাজারে নিয়ে আসেন ১৮৮০ সালে। প্রতিষ্ঠা হয় Edison Electric Light Company। বৈদ্যুতিক বাল্বের মত এমন সাড়া জাগানো আবিষ্কার আলোকিত করল গোটা বিশ্বকে। ঘুচিয়ে দিল সহস্র রজনীর অন্ধকার…