আইফোনের শুরুর কথা

টনি ফেডাল ভাবছিলেন সেদিনটির কথা। যেদিন তিনি সর্বকালের সেরা পণ্য অ্যাপল আই ফোনের প্রোটোটাইপ হারিয়ে ফেলেছিলেন।

স্টিভ জবস এর সাথে প্লেনে যাওয়ার পথে পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন কিছুই নেই। কি হতে যাচ্ছে ভেবে জবস কল্পনায় শিউরে উঠছিলেন। তারপর প্রায় দু ঘন্টা সার্চ পার্টির পরিশ্রমের পর পাওয়া গেল সেই কাঙ্খিত প্রটোটাইপ যা দুটি সিটের মাঝাখানে আটকে ছিল।

এ ঘটনার কয়েক মাস পরেই পুরো পৃথিবী জানল ছোট্ট ডিভাইসটির কথা। যা এখনও ফেডাল শক্ত করে ধরে আছে।

ষাটের দশকের ফোনঃ

টনি ফেডালকে বলা হয় আইপড এর জনক। ২০১০ সালে তিনি অ্যাপল ছেড়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন গুগল নেস্ট। যা এখন আলফাবেট এর মালিকানাধীন।

আইফোনের আইডিয়ার শুরু হয়েছিল আইপডের জন্ম থেকে। যা অ্যাপল এর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। তৈরি করেছিল একটি প্ল্যাটফর্ম। যখন অন্যন্য প্রতিযোগী কোম্পানী যেমন মাইক্রোসফট পিসি সঙ্কুচিত করে ফোনে দেয়ার চেষ্টা করছে তখন আইপড তৈরি করছে তারচেয়েও বেশি কিছু।

প্রথম আইফোনের নকশায় আইপডের ইনপুট ক্লিক হুইল ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে সে ধারণার সমাপ্তি ঘটে খুব তাড়াতাড়িই। জবস চেয়েছিল আইপডকে ষাটের দশকের ফোনে রূপান্তরিত করতে।

এদিকে অ্যাপল এর আরেকটি প্রজেক্টে চলছে টাচস্ক্রিন মেকিনটোশ কম্পিউটারের কাজ। তারা কাজটি গোপনে করছিল। এবং এর সাইজ অনেকটা পিং পং টেবিল এর মত। স্টিভ আইপডে এই টাচস্ক্রিনের ব্যবহার করতে চাইল। কিন্তু টাচস্ক্রিন ব্যবহার করতে চাইলে পরিকল্পনার জন্য পর্যাপ্ত সময় লাগবে, ডেডিকেটেড অবকাঠামো লাগবে আর লাগবে টাকা। তারা এসবের চেষ্টাও শুরু করে।

অবশেষে তারা পেরেছিল, কিন্তু কাজটি মোটেই সহজ ছিল না।

ম্যালমো রহস্যঃ

অ্যাপল ব্যবসা ভাল বোঝে। তবে এর আগে তারা নিজেরা কখনও ফোন তৈরি করেনি। আর তাই ফেডাল তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনা করে। যেখানে টেলিকম বিশেষজ্ঞদের সাথে দেখা করবে এবং দেখবে তাদের রিসার্চ ল্যাব।

শুরু হয়েছিল সুইডেনের একটি মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানী ম্যালমো দিয়ে। যা শেষ হয়েছিল খুব খারাপভাবে।

একটি রেস্টুরেন্টে হোস্ট সহ তারা রাতের খাবার খেতে যায়। কিন্তু বেড়িয়ে দেখে গাড়ী থেকে সব ব্যাগ, নোট ও যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে গেছে। এটা হয়তো ছিল কোন কর্পোরেট গুপ্তচর।

সেদিন অনেক গোপন তথ্য তারা হারিয়েছিল ঠিকই কিন্তু ঘরে ফিরেছিল মাথাভর্তি আইডিয়া নিয়ে।

কীবোর্ড যুদ্ধঃ

আইফোনে কি কীবোর্ড থাকা উচিত?

এ নিয়ে প্রায় চারমাস ধরে চলছিল প্রচন্ড তর্কযুদ্ধ। স্টিভ জবস যার হৃদয়ে টাচস্ক্রিন সেট করা। মানুষ তার আইডিয়া নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে।

কিন্তু জবস এর দৃঢ়তায় খুব দ্রুতই এসব বন্ধ হয়ে গেল। তবুও এখন পর্যন্ত অনেকের ধারণা ব্ল্যাকবেরির মত কী-বোর্ড না করাটা খুব ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। শুধুমাত্র টাচস্ক্রিন ব্যবহারের জন্য তারা সব ঝুঁকি মাথা পেতে নিয়েছিল।

গোপন লেখনীঃ

জবস এ ব্যপারে নিশ্চিত ছিল যে আইফোন লেখনী নিয়ে কাজ করতে হবে না। কেননা প্রয়োজনে আঙ্গুলই সব।

কিন্তু তার এ সিদ্ধান্তে কেউ তেমন নিশ্চিত হতে পারছিল না। তাই তাকে ছাড়াই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবুও স্টিভের শেষ পর্যন্ত লেখনীর ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না। যদিও তার উত্তরাধিকারী ২০১৫ তে  অ্যাপল পেন্সিল লঞ্চ করে।

উপহাস এবং উপসংহারঃ

এরপর এলো ২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারী।

সান ফ্রান্সিস্কোয় মস্কোনি সেন্টারে আইফোন উন্মোচন হল। স্টেজের ওপরে একটি ডিভাইস দেখে মাইক্রোসফট এর চিফ এক্সিকিউটিভ স্টিভ বালমার হেসে উপহাস করে বলল ‘খুব ভাল ইমেইল মেশিন এটা!’ সবাই সেদিন হেসেছিল।

স্টিভ জবস এর কাছে ফেডাল শিখেছিল যখন সবাই তোমাকে অনাকাঙ্খিত উপহাস করবে। তুমি এগিয়ে যাও। আঘাত কর তাদের স্নায়ুতে। সেদিনের পর এক বিলিয়নের বেশি আইফোন বিক্রি হয়েছিল। যা অ্যাপলকে সবচেয়ে ধনী কোম্পানীতে পরিণত করে।

iPhone Keynote – Introduction: 2007