সাইবার নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ

আমাদের প্রযুক্তি নির্ভরতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উদ্বেগ বাড়ছে তথ্য সুরক্ষা নিয়ে। দিন দিন সাইবার আক্রমণ বেড়েই চলছে। সে কারনেই IEEE সিনিয়র সদস্য Bebak D. Beheshti সাইবার নিরাপত্তা ও এর বিবর্তন নিয়ে তার কিছু ভাবনা প্রকাশ করেছেন। আশা করি তার এই অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আপনাকে এবং আপনার তথ্যকে নিরাপদ রাখতে সাহায্য করবে।

বর্তমান দৃশ্যঃ

বর্তমানে সেবার উত্তরোত্তর স্থানান্তর, তথ্য সংরক্ষণ আর ক্লাউড ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে কার্যাবলি সাইবার আক্রমনের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। এমন না যে ক্লাউড-ভিত্তিক অবকাঠামোটিকেই কেবল রক্ষা করতে হবে, আক্রমণকারীরা বৈধ এ.পি.আই (Application Program Interface) কলগুলোকেও লক্ষ্যে পরিণত করতে পারে। এই কলগুলো সংখ্যায় বেড়ে পুরো ক্লাউড প্ল্যাটফর্মকে সম্পৃক্ত করে দিতে পারে। আর সেটাই ডিডিওএস আক্রমণকে সফল করে।

ডিভাইসগুলো যতই ওয়েব-সক্রিয় হয়ে উঠছে, ইন্টারনেট অব থিংস সাইবার আক্রমণের দুয়ার ততই বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় বাসাবাড়ি, পরিধানযোগ্য ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতি, সংযোগ রক্ষাকারী যানবাহন উপরন্তু সংবেদনশীল ওয়েব অবকাঠামোর দূর-নিয়ন্ত্রিত উপাদানগুলো একটি ডিভাইস দিয়েই কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে আক্রমণ করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

নিরাপত্তা টিপসঃ

  • পাসওয়ার্ড পূণঃব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। একবার একটি বড় তথ্য ভাঙ্গা হলে আক্রমনকারীরা অন্যান্য সাবস্ক্রাইব করা ওয়েব একাউন্টগুলোতে আবিষ্কৃত পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে। তারা খোঁজার চেষ্টা করে আর কোন কোন একাউন্টে এই একই পাসওয়ার্ড পূণঃব্যবহার করা হয়েছে। ফলে একটি ডেটা ব্রিচ অনেক বড় ধ্বস এর কারণ হয়ে দাড়ায়।
  • সবসময় ফার্মওয়্যার, সফটওয়্যার ও সিকিউরিটি প্যাচ আপডেটের ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে। যেহেতু সবগুলো ডিভাইস একটি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত থাকে, তাই সবচেয়ে নিরাপদ ও লেটেস্ট ভার্সনের সফটওয়্যার ইনস্টল করে রাখা উচিত। কেননা শুরুতে আক্রমনকারীরা তাদের জানা সফটওয়্যারের দূর্বলতাগুলো দিয়েই সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিঃ

বায়োমেট্রিক্স সাইবার নিরাপত্তায় ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০১৭ সালে ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর দ্বারা সজ্জিত স্মার্ট ফোন ডিভাইসের সংখ্যা প্রায় বিলিয়নের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এই ফিংগারপ্রিন্ট প্রযুক্তি অন্যান্য বায়োমেট্রিক সেন্সর যেমন চোখ স্ক্যান করা পদ্ধতির পরিপূরক হতে পারে। কিন্তু কোনভাবেই তা প্রতিস্থাপক হতে পারেনা। মোটকথা ‘নিরাপত্তার গভীরে’ নীতির চর্চা করতে হবে। আসছে বছরে ডিভাইস প্রস্তুতকারীদের ফোকাস থাকতে হবে এমন কোন প্রযুক্তির দিকে যা ব্যবহারকারীকে সহজে চিহ্নিত করতে পারবে। আর তাই ডিভাইসে এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করা উচিত যা ব্যবহারকারীর মুখ ও কন্ঠ চিহ্নিত করতে সক্ষম।

 

লেখাঃ IEEE Transmitter অবলম্বনে আইরিন সুলতানা।