অনুভূতির স্পর্শে যে হাত

প্যারাগুয়েতে এক বিশাল সংখ্যক মানুষের অঙ্গচ্ছেদ ঘটে শুধু কারখানায় কাজ করতে গিয়ে কিংবা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। তাদের বেশিরভাগই স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই তাদের পক্ষে কৃত্রিম হাত স্থাপনের খরচ বহন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থায়, বিশেষ করে ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং এর মাধ্যমে একটি কোম্পানী স্বল্প মূল্যে প্রায় বাস্তবধর্মী কৃত্রিম হাত তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

কোম্পানীর নাম PO। এরা কন্ট্রোল মেকানিজম সহ ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং এর সাহায্যে কৃত্রিম হাত তৈরি করেছে যা নির্দিষ্ট কোন কাজ করতে পারে। Myo নামক আরেকটি কোম্পানীর সাথে PO যুক্ত হয়। এদের তৈরি একটি বাহুবন্ধনী আছে যা হাতের যান্ত্রিক সংকেত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। তাদের এই বাহুবন্ধনী বায়ো-ইলেকট্রিকাল পেশী সংকেত বুঝতে পারে এবং কৃত্রিম হাতের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। ব্যবহারকারীরা এমনভাবে এটা ব্যবহার করতে পারবেন যেন এই হাত তাদের শরীরেরই অংশ ছিল।

ত্রিমাত্রিক প্রিন্টিং ব্যবহারের ফলে অন্য সাধারন কৃত্রিম হাতের তুলনায় অনেক কম খরচে এটি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। অবিশ্বাস্য ব্যপার হল, একশটি থ্রিডি প্রিন্টিং হাত তৈরির খরচ, মাত্র একটি কৃত্রিম হাত এর সমান! যদিও এখনও কিছু ফিটিংস ও অন্যান্য উপাদানের খরচ যুক্ত করা হয়নি কেননা এর বেশিরভাগ ব্যয় ব্যক্তিগত অনুদানের মাধ্যমে বহন করা হয়েছে।

আসলে প্রযুক্তি এমন করেই যুগে যুগে বিশ্বের কাছে নতুন উদ্ভাবন পৌছে দেয় আর সাহায্যের হাত বাড়ায় কষ্টে থাকা মানুষগুলোর কাছে। চাওয়া শুধু এইটুকুই, ত্রিমাত্রিক হাতের স্পর্শে বেঁচে থাক তাদের স্বপ্নগুলো…

লেখাঃ আইরিন সুলতানা (IEEE Transmitter অবলম্বনে)